লন্ডন : শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ ০৯:৩০ অপরাহ্ন

মাসে ৩ লাখ টাকা আয়ে চলে না সংসার!

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই


প্রকাশ: ০৬/০৬/২০২৬ ১০:৫৮:০০ পূর্বাহ্ন

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী, এ কথা সবারই জানা। 

কিন্তু মাসে ২ লাখ ২০ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন লাখ টাকা) আয় করেও যদি এক কামরার ফ্ল্যাটে থাকা একটি দম্পতির পকেট মাসের শেষে শূন্য হয়ে যায়, তবে অবাক হওয়াই স্বাভাবিক।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে এক মুম্বাইবাসী দম্পতির এমনই এক পোস্ট নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে। 

‘মুম্বাইয়ে থাকা বড্ড ব্যয়বহুল’ শিরোনামের ওই পোস্টে দম্পতি জানান, এত টাকা আয় করেও মাসের শেষে তাদের হাতে কোনো সঞ্চয় থাকছে না। কীভাবে বাজেট সামলানো যায়, তা নিয়ে নেটিজেনদের পরামর্শ চেয়েছেন তারা।

কোথায় যাচ্ছে এত টাকা?

পোস্টে ওই দম্পতি তাদের প্রতি মাসের খরচের একটি বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন। সেখানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে বাড়িভাড়ায়। প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ তাদের খরচ ৪৪ হাজার রুপি।

এ ছাড়া বাজার-সদাইয়ে খরচ হয় ২০ হাজার রুপি। গৃহকর্মীর বেতন আট হাজার রুপি। যাতায়াত ও বিদ্যুৎ বিল মিলিয়ে মাসে আরও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার রুপি ব্যয় হয়।

তবে দম্পতি জানিয়েছেন, তারা প্রতি মাসে ৬০ হাজার রুপি করে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানে (এসআইপি) বিনিয়োগ করেন। পাশাপাশি অফিস–সংক্রান্ত সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মাসে ১২ থেকে ১৩ হাজার রুপি খরচ হয়।

দম্পতিটির দাবি, সব খরচের পরও প্রতি মাসে তাদের হাতে আরও প্রায় ৬০ হাজার রুপি উদ্বৃত্ত থাকার কথা। কিন্তু মাসের শেষে দেখা যায় পকেট পুরোপুরি ফাঁকা।

এর কারণ হিসেবে তারা জানান, শপিংয়ের নেশা এবং বাড়িতে যাওয়ার খরচই তাদের মূল সঞ্চয়ে টান ফেলছে। 

দম্পতি লেখেন, কোনো দিন আমার জামাকাপড়, কোনো দিন ওর জামাকাপড়, কখনো হাতঘড়ি তো কখনো দামি পারফিউম কেনা হচ্ছেই। এর ওপর নিজেদের হোমটাউনে (দেশের বাড়ি) একবার ঘুরে আসতেই ৪৫ হাজার রুপি শেষ হয়ে যায়।

ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার কথা ভাবলে এই জীবনযাত্রা আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

‘আর্থিক সমস্যা নয়, বিলাসী অভ্যাস’

পোস্টটি ভাইরাল হতেই মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। অনেকেই এই দম্পতিকে ‘শহুরে দরিদ্র’ (যাদের আয় ভালো কিন্তু অতিরিক্ত খরচের কারণে সঞ্চয় থাকে না) বলে কটাক্ষ করেছেন।

একজন মন্তব্য করেছেন, মাসে ৬০ হাজার রুপি এসআইপিতে দেওয়া মানেই তো আপনি বড় অংকের টাকা সঞ্চয় করছেন! যদি এই বিনিয়োগের পর দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খান, তবে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা কমান। আর প্রতি মাসে দামি ঘড়ি আর পারফিউম কিনলে আপনাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।

আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, অফিস পার্টির পেছনে মাসে ১৫ হাজার রুপি ওড়ানো বন্ধ করুন। দামি খাবার বা ড্রিংকস অর্ডার না করে বাজেটের মধ্যে থাকুন। বাজার খরচ ২০ হাজার থেকে সহজেই ১০ হাজার রুপিতে নামিয়ে আনা সম্ভব।

অনেকে আবার এটিকে স্রেফ ‘রেজ বেইট’ (ইচ্ছা করে মানুষকে রাগিয়ে ভাইরাল হওয়ার পোস্ট) বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, বিপুল পরিমাণ টাকা সঞ্চয় ও বিলাসিতায় খরচ করে ‘টাকা নেই’ বলে পোস্ট করা এক ধরনের তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আরও পড়ুন