লন্ডন : রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন

মিশরের আল-হাকিম মসজিদ

আল-হাকিম মসজিদ, মিশর

আল-হাকিম মসজিদ, মিশর


প্রকাশ: ০৮/০৪/২০২৬ ১১:২০:৫৭ অপরাহ্ন

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘মিশরের আল-হাকিম মসজিদ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

মিশরের কায়রোর আল-হাকিম মসজিদের বাইরের প্রাচীরে রয়েছে সাতটি মূল ফটক। এটির উত্তর পার্শ্বের ঠিক মাঝখানে রয়েছে মূল ফটক।

এ ছাড়া, বাকি তিন পার্শ্বে দু’টি করে ফটক রয়েছে এ মসজিদের। এসব ফটক দিয়ে প্রাচীরের ভেতরে প্রবেশ করার পর মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশের জন্য পাবেন তিনটি দরজা। এসব দরজা মসজিদের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত।

আল-হাকিম মসজিদের মূল ফটকটি এটির প্রাচীরের চেয়ে ছয় মিটার উঁচু। সামনে থেকে দেখলে অনেকটা কোনো দূর্গের প্রবেশ পথের মতো মনে হবে। প্রবেশ পথের ভেতরের মুখে রয়েছে একটি গোল আকৃতি বিশিষ্ট নামফলক। সেখানে মসজিদের নির্মাণকারী ও নির্মাণের তারিখ লেখা রয়েছে।

মসজিদের এই মূল ফটকের সামনে দশম হিজরির গোড়ার দিকে ‘কুরকামাস’ নামের একটি স্মৃতিস্তম্ভ ছিল যা পরবর্তীতে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে রয়েছে সবচেয়ে বড় বারান্দা। আল-হাকিম মসজিদের মেহরাবটি অর্ধ-বৃত্তাকার ভিত্তির ওপর অত্যন্ত মনোরম শৈল্পিক কারুকাজ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

মসজিদটিতে ইটের নির্মিত তিনটি গম্বুজ রয়েছে। এগুলোর একটি মেহরাবের ঠিক উপরে এবং বাকি দু’টি মসজিদের দুই কোণে অবস্থিত। প্রথম দিকে এই গম্বুজগুলো বর্গাকৃতি থাকলেও পরবর্তীতে এগুলোকে অষ্টকোণাকৃতি করা হয়।

আল-হাকিম মসজিদের মূল ফটকের কাছে রয়েছে পাথরের তৈরি বিশাল দু’টি মিনার। মসজিদের মিনার সম্পর্কে এর আগের কোনো এক অনুষ্ঠানে আমরা বলেছি, রাসূলুল্লাহ (সা.)’র জীবদ্দশায় নির্মিত কোনো মসজিদে মিনার ছিল না।

মুয়াবিয়ার খেলাফতকালে ৪৫ হিজরি মোতাবেক ৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মিনার নির্মিত হয়। সে সময়কার ইরাকের গভর্নর জিয়াদ ইবনে উবাই এই মিনার নির্মাণ করেন। মিনারের ভিত্তি সাধারণত বর্গাকৃতির হয় এবং এর উপরে নির্মিত হয় মিনারের মূল কাঠামো।

এই মূল কাঠামোটি হয় মোচাকৃতির এবং এর শীর্ষে থাকে মিনারের মূল অংশ। শীর্ষের এই অংশটি চতুর্কোণ বা অষ্টকোণ বিশিষ্ট হয়ে থাকে। আল-হাকিম মসজিদের উত্তর দিকের মিনারটি ২৩ মিটার এবং পশ্চিম পার্শ্বের মিনারটি ২৪ মিটার উঁচু।

 

আরও পড়ুন